sculptures

Wednesday, 9 October 2013

উতসর্গ: (তারপর) ছেড়ে যাবার পথ ছিল অনেক, তারপর ফেরা দেশটুকু সেরা দেশটুকু খানেক, দলছুট বিকেল আর বিষন্ন একা ঘর ফেরা , এমন অভিসার ভরা রাত..শুধু তাদের -.ছেড়ে চলে গিয়েছে যারা!


পুজো 

কাল সকালে contents এর ভিড় নেই. কাল সকালের alarm অলস রূপ সায়রে পা ডুবিয়ে dormant মোড এ থাকলেও ক্ষতি নেই. কাল মাথার calculator ৮:৪৫ এর বাস মিস করলে চিন্তাগুলো (s) sub -conscious ঠেলে বেরিয়ে এসে বলবে না: এমনই হলো তৃতীয় গ্রহণ দেখা = ৩ দিন লেট! কাল আমার নিজের সকাল! চা এর আমেজ আর নকশা কাটা রোদ্দুর দেখবে ঘড়ির কাটার মিছিমিছি ছুটোছুটি! সময় উত্সবের ফুটপাথ ধরে কানা মাছি ভো ভো খেলতে খেলতে দেখবে আমি অ্যাশ ট্রে ঘিরে বুনছি জলছবি. কাল আমার নিজের দিন. আমার একলা ঘরের চুপকথার দিন. কাল আর মুখ- মুখোশ গুলোবে না. কাল একলা রাস্তায় হাটতে গিয়ে ভয় নামের কালো পাপোষে পা হরকে পরব ন! আমি যদি ভিড় হয়ে যাই?
আমিই ভিড় হয়ে যাই, আমি ভিড়ই হয়ে যাই..


আমার চেনা কলকাতা বদলাচ্ছে. পুজো পুজো রোদ আজকাল টের পাই না. কে জানে হয়ত মনের বয়স বাড়ছে. মহালয়া এলেও আমার পুজো আসে না. তবে মন চলে যায় বহুদূর....আমার যে আবার সবটাই প্রবাস! মনের! পুজোর রোদে মন খারাপ করা গন্ধটা সেই ছোটবেলা থেকেই চেনা. আজও পাই সেই চেনা গন্ধ..( বাড়ির শিউলি গাছটা কবে মরে গেছে, মনে আছে আমার মেয়েবেলায় পুজোর সকালে শিউলি ফুল তুলে মালা গাথতাম, অপটু হাতের মালার সুতো হলুদ হয়ে যেত; কিছু ফুল ছিরত তবু মালা গাথতাম! আর মালা গাথা হয় না ).. হয় না কতকিছুই! ময়দান জুড়ে পুজোর রোদে খালি পায়ে শাড়ির আঁচল লুটিয়ে হাটাও আর হয় না. ...ঘাটের কাছে শুধু গল্প বলে নদীর জল; ছলাত ছল ছলাত ছল!

পুজো আসে .....সম্পর্কের expiry ডেট পার করেও; পুজো আসে.!!!
আসার জন্যই আসে . আমার মন কেমনের সকালবেলার হাত ধরে, বাইরে বারান্দার মাটিতে রোদ্দুরের কাটাকুটি খেলায় , ছাদ জুড়ে কার্নিশ ডিঙিয়ে আমার আলট্রা মডার্ন পাড়ার নিস্তরঙ্গ গলিঘুজি পেরিয়ে. পুজো আসে. মুখের ভিড়ের দালান খোঁজে অযথা ব্যস্ততা . পাশের বাড়ির পুজো আসে কেনাকাটির ছলে; দোরে ঘরে Asian paints চড়ে! মেয়েবেলায় পুজো ছিল মুক্তি... আলোয় আলোয় ধুলায় ধুলায়..মুক্তি নেই, আগেও জেনেছি, মুক্তির বড় দাম.
চারপাশের ঝলমলে রোদ্দুর...সবুজের উপর ছুটতে ভালো লাগত..ছুটতে ছুটতে দম ফুরিয়ে যাবে, আমি শরীর এলিয়ে শুয়ে পড়ব সবুজে..শুয়ে শুয়ে সবুজ মাখবো...আকাশ নেমে আসবে বুকের ওপর.. সারা শরীর দিয়ে আকাশ মাখবো...মুখের ওপর বুকের ওপর..সেথায় আমার "সব পেয়েছির দেশ" আমার নেই অন্ধকার থেকে আছে অন্ধকারের দিকে ভীরু পায়ে হাটা .. আর কাশগুলো শরৎ গল্প বুনবে.. বলবে শেষ রাতের ছুয়ে যাওয়া তিরতির হাওয়ার কথা, বলবে: "তোমারো অভিসারে যাব অগম পারে... চলিতে পথে পথে বাজুক ব্যথা পায়ে.."
নাহ! 
আমি আর ছুটি না.. পুজো ছোটে..আমি সাথে ছুটি না... ভাবো! দোয়েল পাখির ভোর আসে, আসে না, পুজো আসে! শরীর জুড়ে পুজো পুজো গন্ধ , পুজো রং জড়ানো নেশা সব কেমন পুরনো ডায়রির নতুন পাতার মতন. যতই তার ফ্যাশন থাকুক স্টাইল টুকু আগাগোড়া নকল, কারণ তা পুরনো.

অলস রাতের কলকাতায় এখন কাজের মানুষ and মানুষদের পুজো রমরমিয়ে. আমি অকাজের. তাই বাদ. এ যেন রবি ঠাকুরের "ভুল স্বর্গ"! জানলা খুললেই পাশের বাড়ির যত্নের গাছ. বড় বেশি যত্ন !
দলছুট পাতাগুলয় তাই পুজোর গন্ধ নেই, ভাসান আছে. গাছের পাতার ফাকে রাতের গন্ধ ভাসে.
ভাসে আমার বুকেও. জানলার গারদ তখন চরণ গা আলতা নদী পেরিয়ে পাঠিয়ে দেয় আমার দেশে.সেখানে সবুজ নদী গেরুয়া পাহাড় সেখানেই আমি আদৃতা..ঠিক যতদুর মন ভেসে যায়? ঠিক ততদূর আমার দেশ! খুজে পাই আমার মেয়েবেলা, না খুজে পাই না, ঘুরে তাকাই.
তবু পুজো আসে. আমি অপেক্ষায় থাকি পুজো শেষ হওয়ার. মানুষ ভিড়, আলো... না... কাজ চাই, অনেক কাজ!